Career & Scholarship

চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্তে সাধারণ দশটি ভুল

Store

চাকরির ক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্ত একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। নিজেকে বোঝানোর এবং চাকরিদাতাদের কাছে নিজেকে প্রমান করতে এই জীবনবৃত্তান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সাধারণ কিছু ভুলের জন্য হয়তো পছন্দের কাজটি হাতছাড়া হতে পারে। এমন দশটি সাধারণ ভুল সম্পর্কে বলা হচ্ছে।

১। স্বচ্ছতার অভাবঃ

একজন চাকরিদাতা যদি আপনার কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা, আপনার দক্ষতা সম্পর্কে বৃত্তান্ত দেখে ধারণা নিতে না পারে, তবে চাকরি পাবার আশা অর্থহীন। তাঁরা কখনোই নিজে থেকে বুঝে নেবার জন্য সময় নষ্ট করবে না। বরং এই সুযোগে অন্য কারো যোগ্যতা দেখে নেওয়াটাই তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২। তথ্য বহুলতাঃ

এক পৃষ্ঠায়, ছোট ছোট ফন্টে নিজের সব তথ্য দেওয়ার ব্যাপারটি অনেকেই করে থাকেন যা নিতান্তই অমূলক। এতে চাকরিদাতাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। উপযুক্ত শিরোনাম এবং ফন্ট দিয়ে লিখুন। এবং দরকার হলে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারেন। কাগজে স্পেস এর ব্যবহার এমনভাবে রাখুন যা আপনার বৃত্তান্তকে চাকরিদাতার কাছে স্পষ্ট ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

৩। ভুল শব্দ ব্যবহারঃ

অনেক প্রার্থিরাই ভুল শব্দের ব্যবহার করে নিজেকে কাজের জন্য উপযুক্ত প্রমাণ করা থেকে ব্যর্থ হন। এছাড়া অনেক চাকরিস্থলেই এখন অ্যাপলিকেন্ট ট্রেকিং সিস্টেম ব্যবহার করেন। এই সিস্টেম উপযুক্ত শিরোনাম কিংবা শব্দ না পেলে প্রথমেই বাদ হয়ে যেতে পারে আপনার আবেদনটি। তাই চেষ্টা করুন সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ এবং শিরোনাম ব্যবহার করতে।

৪। এক বৃত্তান্ত সব জায়গায় ব্যবহার করেঃ

অনেকেই একই ধরণের জীবনবৃত্তান্ত দিয়ে সব ধরণের চাকরির আবেদন করে থাকেন। কিন্তু চাকরিদাতারা চান তাদের কাজের জন্য চাকরিপ্রার্থীরা একেবারে নির্দিষ্ট করে আবেদন করেন এবং স্পষ্ট করে এই কাজের জন্য তার দক্ষতা প্রমান করার চেষ্টা করেন। তাই একই বৃত্তান্ত সব জায়গায় ব্যবহার না করে একেক কাজের জন্য স্পষ্ট এবং উপযুক্ত বৃত্তান্ত ব্যবহার করুন।

৫। অতিরিক্ত আত্নপ্রকাশঃ

নিজেকে প্রমান করার জন্য সব জায়গায় নিজের দক্ষতা ও সফলতার বর্ণনাও কিন্তু খুব একটা ভালো নয়। চাকরিদাতারা এই কাজের ব্যাপারে আপনার মতামত, আপনার অবস্থা এবং আপনি   কিভাবে এটি দেখেন তা সম্পর্কে জানতে চায়। জানতে চায়, নির্দিষ্ট কাজে আপনি কি করে প্রতিষ্ঠানে অবদান করতে পারেন। তাই এইসব প্রশ্নের উত্তর বাদ দিয়ে বারবার নিজেকে জাহির করা থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করুন। এবং বৃত্তান্তে নির্দিষ্ট কাজের ব্যাপারে আপনার দক্ষতা প্রয়োজনীয়তার পর্যায় অনুসারে দেখাতে চেষ্টা করুন। এতে করে চাকরিদাতাদের বুঝতে সুবিধা হবে।

৬। অযৌক্তিক মেইল অ্যাড্রেসের ব্যবহারঃ

নিজের ব্যক্তিগত মেইল এবং অফিসিয়াল মেইল যাতে কোনভাবেই এক না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৭। কাজের এবং ফলের অসমন্বয়তাঃ

কাজে আপনার ভূমিকা, কাজের ফলাফল এমন সব বিষয় সম্পর্কে জানাতে চেষ্টা করুন। এসব কাজ থেকে আপনার অভিজ্ঞতা, সময় এবং সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিন চাকরিদাতাদের।

৮। দক্ষতার বহুলতাঃ

প্রার্থিরা অনেক সময় নিজেদের অনেক দক্ষতার কথা বলে থাকেন চাকরিদাতাদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য। এর মধ্যে অনেক দক্ষতা হয়তো এই কাজে দরকার হয়না। তাই দক্ষতা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

৯। সংক্ষিপ্ততাঃ

কাজের ব্যাপারে আপনার দক্ষতা, আপনার উদ্দেশ্য এবং নিজের ভাবনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ের কোন একটি বাদ গেলে হয়তো চাকরিটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চাইছেন তা সম্পর্কে, তার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানুন এবং জীবনবৃত্তান্তে উলেখ করুন এই সম্পর্কে আপনার দায়িত্ব ও নিজের পছন্দের বিভাগের দায়িত্ব সম্পর্কে।

১০। নিজেকে হারিয়ে ফেলাঃ

নিজেকে বেশি জাহির করার বিষয়টি যেমন ভালো নয়, নিজেকে একেবারেই না প্রকাশ করার ব্যাপারটিও এড়িয়ে চলুন। জীবনবৃত্তান্তের মাধ্যমে নিজেকে যথাসম্ভব প্রকাশের চেষ্টা করুন। নিশ্চিত করুন যে আপনি আপনার ব্যাপারে সম্পূর্ণরুপে আত্নবিশ্বাসী। নিজেকে প্রকাশ করার কএই চ্যালেঞ্জটি গ্রহন করুন।

 

Comments

comments

4 Comments

4 Comments

  1. Munni

    July 24, 2015 at 7:12 am

    Nice

    • Youth Carnival

      October 1, 2015 at 9:37 am

      thanks

  2. MD Morshed Alam

    August 10, 2015 at 4:14 pm

    100% right

    • Youth Carnival

      October 1, 2015 at 9:37 am

      thanks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top