Career & Scholarship

জীবন চলার পথে পড়ে যাওয়া মানেই সব শেষ হওয়া নাহ, নতুন উদ্দমে উঠে দাঁড়ানোর মাঝেই সফলতা: প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এম ফয়জুর রহমান

  • 11866455_10154096922756521_2329262554354251554_n
  • 2012-10-30-17-27-23-50900dfb33505-untitled-12
  • 11830348_10153517068478910_33348851_n
  • 11866455_10154096922756521_2329262554354251554_n
  • 2012-10-30-17-27-23-50900dfb33505-untitled-12
  • 11830348_10153517068478910_33348851_n

Store

জীবন চলার পথে পড়ে যাওয়া বা পরীক্ষায় ফেল করা মানেই সবশেষ হওয়া নাহ, নতুন উদ্দমে উঠে দাঁড়ানোর মাঝেই সফলতা: প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এম ফয়জুর রহমান

2012-10-30-17-27-23-50900dfb33505-untitled-12

ইয়ুথ কার্নিভালের পক্ষ থেকে আমরা এবার মুখোমুখি হয়েছি ডেস্প্রিং লিমিটেডের পরিচালন প্রধান এবং পিএমপির কোর্স ইন্সট্রাক্টর এম ফয়জুর রহমান। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পেশার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

ইয়ুথ কার্নিভাল: আপনার নিজের সম্পর্কে একটু বলুন?
ফয়জুর রহমানঃ অবশ্যই আমার প্রথম পরিচয় আমি মানুষ, মানুষ হয়ে জন্মেছি এবং মানুষ হয়ে মরতে চাই। জন্ম আমার রংপুরে, দাদু বাড়ী রংপুরের পীরগঞ্জে এবং নানু বাড়ী রংপুরের মিঠাপুকুরে। আমি হচ্ছি আপাদমস্তক “বাহের দেশে”র মানুষ। প্রথম স্কুল পুলিশ লাইন স্কুল, তখন শুধু প্রাইমারী পর্যন্ত ছিল, এরপরে রংপুর জিলা স্কুল, রংপুর ক্যাডেট কলেজ হয়ে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব টেকনলজী, খুলনা (এখনকার KUET) থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স এ গ্রাজুয়েশন এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ফাইন্যান্স মেজর নিয়ে এমবি এ পর্যন্ত পড়াশুনা। পাশাপাশি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের উপরে PMI থেকে PMP, APMG থেকে PRINCE2 Practitioner এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্টের উপরে PMI থেকে RMP সার্টিফিকেশন নিয়েছি। কর্মজীবনে এখন ট্রেনিং এবং কনসালটেন্সি নিয়ে কাজ করার চেস্টা করি প্রজেক্ট এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্টে উপরে। আর ব্যক্তি জীবনে আমার ১২ বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

ইয়ুথ কার্নিভাল: আপনার মতে আপনি কতটুকু সফল?
ফয়জুর রহমানঃ দেখুন, সফলতার সংজ্ঞা কিন্তু ভীষন গ্রে একটা ব্যাপার। যখন ছোট ছিলাম, ভীষন ফুটবল পছন্দ করতাম, পাড়ায় পাড়ায় তখন মেডেল দিয়ে ম্যাচ হত, সেসব ম্যাচ জিতলে মাটিতে পা পড়তে চাইতো না। ক্যাডেটে যখন চান্স পেলাম, পরিবারের সবাই “সফল সন্তান” তকমা লাগিয়ে দিল। এরপরের বিফল তকমা পেতেও বেশী সময় লাগেনি আমার। ক্যাডেট থেকে পাশ করার পরেও প্রথম বছর দেশের কোথাও ভর্তি হতে পারিনি আমি। এমনকি রংপুর কারমাইকেল কলেজেও মেরিটে আমার নাম আসেনি। বুয়েটে তখন HSC এর সাইন্স সাবজেক্টেগুলোতে ৭২% এর নীচে থাকলে পরীক্ষার বসারই সুযোগ আসতো না, আমার ছিল সম্ভবত ৬৮%। কি ভীষন লজ্জার ব্যাপার ছিল তা, পরিবারের কাছে, বন্ধুদের কাছে। কিন্তু ক্যাডেট কলেজের শেষ বছরটা আমার ছিল একজন ক্যাডেটের স্বপ্নের মত, প্রিফেক্ট, টিভি-ডিবেটে কলেজের হয়ে অংশ নেয়া, ইন্টারকলেজ প্রতিযোগীতায় টিম-ক্যাপ্টেন হয়ে খেলতে যাওয়া, এথলেটিক্সে মশাল নিয়ে দৌড়ানো। কি স্টেজে, কি মাঠে। পৃথিবীতে যতজনকে সফল মানুষ হিসেবে আমরা চিনি, তারা নিজেদের কতখানি সফল ভাবতে্ন, সেই প্রশ্ন তুলাই যায়। যে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়, তার লক্ষ্য তো ২২ বছরেই পুরো হয়ে যায়, কিন্তু জীবনের পথ তো আরও অনেক লম্বা। সেই পথে কি সে লক্ষ্যহীন থাকবে? কিংবা কোন একটা লক্ষ্য পুরন না হলেই সে কি বাতিল? পরীক্ষায় ফেল হতেই পারে, তাই বলে কি আরেকবার পরীক্ষা দেব না? এর চেয়ে ফালতু কথা আর হতে পারেনা। তাই সফলতা-বিফলতা নিয়ে আমি ভাবিনা এখন। মনে আনন্দ নিয়ে এখন দৌড়াচ্ছি, পড়ে যদি যাই, আমি আবার উঠে দৌড়াব ইনশাআল্লাহ। এর ছাড়া আর কিছু নেই সামনে।

ইয়ুথ কার্নিভাল: আপানর জীবনের উত্থান-পতন গুলো কে কিভাবে দেখেন?
ফয়জুর রহমানঃ স্বাভাবিক ভাবে নিতে চেস্টা করি। পতন আছে জন্যই উত্থানগুলো গুলো আনন্দদায়ক। নতুবা জীবন ভীষন ম্যাড়মেড়ে। তবে ভয়ানক কিছু সময় মানুষের জীবনে আসবেই, আমার ধারনা সবার জীবনেই তা আসে কোন না কোন সময়, এই সময় পরিবারের সাহায্য খুব দরকার হয়। আমার জীবনের খুব খারাপ একটা সময় আমার মা আমাকে ছায়ার মত আগলে রেখেছিলেন। কিছু সময় বন্ধুরা সব কিছু শেয়ার করেছে, পাশে এসে দাড়িয়েছে, এরকম বন্ধু পাওয়াটা ভীষন ভাগ্যের। বিয়ের পরে বউ শেয়ার করে এখন, এটাও একটা দারুন ব্যাপার আমার জীবনে। বাচ্চাটা বড় হচ্ছে, এখন সেও মাঝে মাঝে টিপস দেয়। এতে নিজেকে হালকা লাগে, কাজের স্পৃহা আসে। এখন উত্থান-পতনের ব্যাপারগুলো সরলরৈখিক করার চেস্টা করি, তাই হোচটও লাগে না, গর্ব ভাবটুকুও আসেনা, আবার পড়ে যাবার ভয়টাও কাজ করে না। লাভের মধ্যে, খারাপ সময় থেকে বেচে থাকা যায়।

ইয়ুথ কার্নিভাল: কিছু motivational গল্প বলুন? সাথে কিছু মজার গল্প?
ফয়জুর রহমানঃ আপনারা আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, এটাই তো দারুন একটা মজার ঘটনা। কেন নিচ্ছেন? সব বাবাই তার সন্তানের কাছে হিরো, কত দূর্ভাগ্যবান সেই বাবা, যিনি সন্তানের কাছে হিরো হতে পারেননি। আমার বাবা ছিলেন “হাতিতে চড়ে চলাফেরা করা” জমিদারের নাতি। ভীষন সৌখিন, চোস্ত ইংরেজী বলা, সাহেবী চলাফেরা করা মানুষ, ফুডের চাকুরী নিয়ে যখন কোলকাতায় যাচ্ছেন, তখন দাদা বলেছিলেন “তুমি চলে গেলে তোমার ছোট ভাই-বোন দের কে বড় করবে?” ব্যাস, বাবা চাকুরী ছেড়ে পুরোদস্তর গৃহস্থ হয়ে গেলেন, ভাই-বোন দের পিছনে লাগলেন, তারা বড় হল, বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়লো, এরপরে তিনি লাগলেন সন্তানদের পিছনে। আমার এক ভাই বাবার ফেলা দেয়া সিগারেট কুড়িয়ে বাবার মত ভংগীতে টানছিলেন, দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে বাবা সেই মূহুর্তে সিগারেট ছেড়ে দিয়েছিলেন। যখন চাকুরী করি, কেয়ার টেকার সরকারের সময় BTRC থেকে ভীষন চাপ ছিল, তাদের চাপটা যৌক্তিক ছিল, আবার এদিকে PSTN অপারেটরদের ব্যবসার মূল ভিত্তিটাই ছিল দূর্বল। সেই সময় ভীষন চাপে ছিলাম, টপ এক্সিকিউটিভ হিসেবে এম্পলয়ী টার্মিনেশন বা বিজনেস উইং ওয়ার্প আপের মত কঠিন সিদ্ধান্ত গুলো নিতে হচ্ছিল। আমাকে BTRC মিটিং এ যেতে হত, PSTN অপারেটরদের একটা এসোসিয়েশন ছিল, কিছু দারুন এন্টারপ্রেইনার ছিলেন ওখানে, তাদের সংগে বসতে হত, নিজেদের কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায় তার আলোচনা, খরচ কমানোর প্রেসার, আর নিজেদের অফিসের কলিগদের রুটি-রুজির টেনশন, ত্রিমুখী চাপ। আমরা ভালো ভালো কলিগদের চলে যেতে বলতাম, তাদের সময় দেয়ার চেস্টা করতাম, আবার এও বুঝতাম একটা সময় নিজেকেও সরিয়ে নিতে হবে। পরিবারের কথা মনে হত, অথচ নিজের জন্য সময় বের করা, একটা চাকুরীর চেস্টা করা, এই সময়টুকু পেতাম না। যখন খুব দমবন্ধ লাগতো জামাল খান থেকে হেটে হেটে আন্দরকিল্লার মোড়ে চলে যেতাম, দেখতাম মানুষ জীবিকার জন্য কি দারুন লড়াই করছে, কেউ কলা বিক্রি করছে, কেউ কানের দুল বিক্রি করছে। একবার চোখে পড়ল কিছু মানুষ টাইপ করছে। আমার তখন মনে হল, আরে আমিও তো দারুন স্পিডে টাইপ করতে পারি, বাংলা ইংরেজী দুটোই। চাকুরী চলে গেলে এখানে এসে টাইপিং শুরু করে দিব, কিছু একটা তো হবে, এই হল ভাবনা। ঈদানীং পাবলিক বাসে যখন চড়ি তখন মানুষের বিভিন্ন এন্যালাইসিসগুলো মন দিয়ে শুনি, ফার্মগেটের উপর দিয়ে গেলে ওখানকার ক্যানভাসারদের স্টাইল দেখি, দারুন লাগে। সংসদের সামনে কি সুন্দর গল্প সাজিয়ে বসে থাকে কত কত মানুষ, তাদের দেখি। বাচ্চাদের সংগে মেশাটাও চ্যালেঞ্জিং। প্রতিটি বাচ্চাই তার ভিতরে কিছু গুপ্তধন লুকিয়ে রাখে, এর চাবি হচ্ছে তার সংগে বন্ধুর মত মিশতে পারা। জীবন সম্পর্কে তাদের লজিকগুলো দারুন। একটা উদাহরন দেই, বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষ্যে একজন আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের বিরাট বিরাট পতাকা একটা বাশে বেধে বিক্রী করছে, বাশের মাথায় ছোট্ট একটা বাংলাদেশের পতাকা লাগানো। আমার মেয়েকে বললাম “দেখছো বাংলাদেশের পতাকাটা কত ছোট, অন্য দেশেগুলো কত বড় বড়”, সে বিজ্ঞের মত বললো, “বাংলাদেশের সব বড় বড় পতাকা আগেই বিক্রী হয়ে গিয়েছে, শুধু ওটাই বাকী আছে”। মনে হল, আরে তাইতো, ব্যাপারটা তো এরকমও হতে পারে, ক্ষতি কি। এভাবেই তো পারসেপশন তৈরী হয়। এখন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করতে, কথা বলতে দারুন লাগে। প্যাশন আর প্রফেশন এক হয়ে গেলে সুন্দর একটা রিদম তৈরী হয়। সাকিব ঘন্টার পর ঘন্টা বল করতে পারে, মুশফিক সারাদিন প্যাড পরে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, মাশরাফি ভাংগা হাটু নিয়ে দৌড়াতে পারে। আর আমি পারি সারাদিন প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলতে, কাজ করতে। ক্লাস পার্টিসিপেন্টরা প্রায়ই বলে, ভাইয়া আপনি সকাল সাড়ে নয়টায় যেভাবে শুরু করেন, বিকাল পাচটায় সেই গতিতেই শেষ করেন। আমার দারুন লাগে, সময় কখন চলে যায়, টেরই পাইনা।

ইয়ুথ কার্নিভাল: প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বা প্রকল্প ব্যবস্থাপনা মূলত কী? এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলুন?
ফয়জুর রহমানঃ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা হচ্ছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার জন্য একটা সাময়িক ব্যবস্থাপনা। এর একটা বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা ক্রস-ফাংশনাল। যেমন ধরুন পদ্মা ব্রীজ। পদ্মা ব্রীজের জন্য আপনাকে জমি অধিগ্রহন করতে হবে, এটা একটা আইনী প্রক্রিয়া, জমিগুলোকে তৈরী করতে হবে, ডিজাইন করতে হবে, মালপত্র কিনতে হবে, নদী শাসন করতে হবে, রাস্তা বানাতে হবে। এর যদি কোন একটা বাধাগ্রস্থ হয় তবে পুরো প্রক্রিয়াটাই ভেস্তে যাবে। অথচ প্রতিটি কাজ ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় ভিতর দিয়ে যাবে। আইনী প্রক্রিয়ার সংগে ক্রয় প্রক্রিয়ার বা ডিজাইন প্রক্রিয়ার কোন মিল নেই, অথচ যে কোন একটা ভেস্তে গেলেই সমস্যা। এটা একটা বড় মাপের উদাহরন হয়ে গেল। ছোট উদাহরন যদি দেই, মনে করুন আপনি অফিসের জন্য একটা HR সফটওয়ার বানাবেন। এটা বানাবে IT, আর এখানকার ডাটাগুলো ব্যবহার করবে HR, সফটওয়ারটা কিন্তু আবার বানানো হচ্ছে যাতে অফিসের সবাই ব্যবহার করতে পারে তাদের দৈনন্দিন কাজে। আর এটা বানানোর পিছনে যৌক্তিক যে কারন তা হচ্ছে staff effectiveness বা এই ধরনের কিছু প্যারামিটার। এখন পুরো জিনিসটার সম্বনয় না হলে ব্যাপারটা ভেস্তে যাবে। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের লক্ষ্য হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট প্রডাক্ট বা পন্য তৈরী, বা নতুন সার্ভিস, বা এইধরনের কিছু তৈরী করা যা আপনার ব্যবসাকে গতিশীল করবে, প্রসার ঘটাবে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রডাক্ট তৈরী হয়ে গেলে হয়ে গেলে তখন সেটা অপারেশনাল বিভাগকে দিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে তারাই এটি চালাতে থাকে।

ইয়ুথ কার্নিভাল: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কোন কোন খাতে প্রযোজ্য?
ফয়জুর রহমানঃ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের আসলে সুনিদির্ষ্ট কোন খাত আলাদা করা নেই। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আসলে কিছু বৈশিস্ট্যের সমস্টি এবং এটা সব খানেই প্রয়োগ করা যায়। আপনি হয়ত নতুন কল-প্যাকেজ ছাড়ছেন, তখন অবশ্যই কিছু প্রশ্ন আপনার সামনে আসবে, যেমন টার্গেট গ্রুপ কারা, ফিচার কি থাকবে, কত টাকা দিয়ে বিক্রী করবেন, বানাতে কত খরচ করবেন, কবে নাগাদ ছাড়তে হবে এইসব আরকি। এইগুলো খুবই বেসিক জিনিস। বাজারে টিকে থাকার জন্য বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এখন নিত্যনতুন সার্ভিস বা সেবা এবং প্রডাক্ট বা পণ্য নিয়ে আসতে চায়। নিদির্স্ট সময়, খরচ, টার্গেট গ্রুপ, ফিচার এগুলো এন্যালাইসিস না করে হুট করে বাজারে ছেড়ে দেয়া বিলাসিতা, কারন এখন প্রতিযোগীতা বাড়ছে। সেই অর্থে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সবখাতেই এটা প্রযোজ্য।

ইয়ুথ কার্নিভালঃ প্রকল্পকে কিভাবে সফল করে তোলা যায়?
ফয়জুর রহমানঃ মাঝে মাঝে তো ব্যাপারটা খুবই কঠিন হয়ে যায়। কারন বুঝতেই পারছেন কাজ শুরুর আগের পরিকল্পনা কাজের মাঝে বা শেষে একই রকম থাকবে তা মনে করার কোন কারনই নেই। আর সমস্ত স্টেকহোল্ডার একই রকম ভাবে ভাববে তাও হয় না। রামপাল নিয়েই দেখুন না, কি হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রান কিভাবে পাওয়া যেতে পারে, সেটা নিয়ে গবেষনা হয়, হচ্ছে, এটা চলমান প্রক্রিয়া। PMI বলে একটা অর্গানাইজেশন আছে, আমেরিকা কেন্দ্রীক, তারা PMBOK বলে একটা স্ট্যান্ডার্ড বের করেছে, রেগুলার আপডেট করে, বৃটিশ সরকার তাদের নিজেদের জন্য একটা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ম্যানুয়াল তৈরী করেছে প্রজেক্ট ইন কন্ট্রোল ইনভারমেন্ট নামে। মূল ব্যাপারটা হচ্ছে, আপনি যদি কাজ শুরু আগেই একটা বেঞ্চমার্ক তৈরী করে ফেলতে পারেন, স্কোপ, টাইম, কস্ট কোয়ালিটি নিয়ে, তাহলে আপনি আসলে তুলনামূলক একটা চিত্র কাজ শুরু প্রথম দিন থেকেই মনিটর করতে পারবেন, তাতে আপনার সাফল্যের হার বাড়বে, নিদেন পক্ষে লক্ষ্যের কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

11830348_10153517068478910_33348851_n

ইয়ুথ কার্নিভাল: পেশাদারি সনদের মধ্যে PMI এর PMP সর্বাধিক ব্যবহূত ও গ্রহণযোগ্য। কীভাবে এই PMP অর্জন করা যায় এবং কারা করে থাকে?
ফয়জুর রহমান: এ ক্ষেত্রে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটই (PMI) সবচেয়ে পুরোনো। ১৯৬৯ সালের দিকে প্রথম এটি কাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত প্রজেক্টের জন্য যতগুলো স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করা হয়েছে, তার মধ্যে PMI এর তৈরী PMBOK অন্যতম এবং এটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয়। আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, চীন, ব্রাজিল, ভারত, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, সিংগাপুর প্রায় সব দেশ পিএমআই স্ট্যান্ডার্ড ফলো করে। বর্তমানে এটির পঞ্চম সংস্করণ চলছে। PMBOK প্রজেক্ট লাইফ সাইকেলকে কাজের সুবিধার জন্য প্রসেস গ্রুপে ভাগ করেছে, প্রজেক্ট শুরু আগে কি করতে হবে, প্রজেক্টের প্ল্যান কিভাবে করতে হবে, প্রজেক্ট কিভাবে করতে হবে, কিভাবে কন্ট্রোল করতে হবে এবং কিভাবে ক্লোজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রজেক্ট এর সাবজেক্ট হিসেবে ১০টা সেক্টর করেছে, যেমন কি করতে চান, এটাকে বলে স্কোপ মানেজমেন্ট, কত সময়ের মধ্যে করতে চান, কত খরচ করতে যান, কোন এক্সপেক্টেশন মিট করতে চান, কেনাকাটা কিভাবে করতে চান এইসব। এগুলোর প্রথমে প্ল্যান করতে হবে, কিভাবে প্ল্যান করা যায় তার গাইড লাইন, কিভাবে এক্সিকিউট করবেন তা এবং তার গাইডলাইন, কন্ট্রোল করার গাইডলাইন এইগুলো নিয়ে সাজানো এটি। দারুন কনসেপ্ট। যারা এইগুলোর উপরে দক্ষ তাদের PMI থেকে অফিসিয়ালি সার্টিফিকেশন দেয়া হয়, সেটাকেই বলে PMP. আপনি PMP হতে চাইলে প্রথমে দেখতে হবে গত ৮ বছরে নূন্যতম ৩৬ মাস এবং ৪৫০০ ঘন্টা আপনি প্রজেক্টের কাজ করেছিলেন কিনা। যদি করে থাকেন তাহলে আপনাকে একটা ট্রেনিং নিতে হবে PMBOK এর উপরে যার দৈর্ঘ্যে হতে হবে নুন্যতম ৩৫ ঘন্টা। এটাকে বলে এক্সাম প্রিপারেটরি কোর্স। এখন আপনি PMP পরীক্ষার জন্য যোগ্য হলেন। এখন আপনাকে তাদের ওয়েব সাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে PMP পরীক্ষার জন্য এপ্লিকেশন করতে হবে। এপ্লিকেশন একসেপ্ট হলে তারা আপনাকে পরীক্ষা দিতে বলবে, চার ঘন্টার একটা পরীক্ষা দিতে হবে, ২০০ নাম্বারের। পাশ করলে আপনি PMP সার্টিফাইড হলেন।

ইয়ুথ কার্নিভাল: বাংলাদেশের কোথায় কোথায় এই পরীক্ষার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা যায় এবং PMI থেকে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট বা সনদ কি সারা বিশ্বে গ্রহণযোগ্য?
ফয়জুর রহমান: PMI এক্সাম প্রিপারেশন কোর্সটি সঠিক ভাবে করানোর জন্য সারা বিশ্বে এজুকেশন পার্টনার নিয়োগ দিয়েছে। এদেরকে বলা হয় R.E.P অর্থাৎ রেজিস্টার্ড এডুকেশন পার্টনার। বাংলাদেশে যেমন ডেস্প্রিং লিমিটেড একটি রেজিস্টার্ড এজুকেশন পার্টনার। এ ছাড়া আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যারা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট প্রফেশনাল অর্থাৎ পিএমপির প্রিপারেশন কোর্সের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তবে দেখতে হবে, যিনি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তিনি সার্টিফায়েড পিএমপি কি না। PMI দেওয়া সনদ একটি আন্তজার্তিক মানের স্বী্কৃত সনদ, প্রজেক্ট ম্যানেজারদের জন্য, এবং বহিঃবিশ্বে এর বেশ ভালো মূল্যায়ন করা হয়।
ইয়ুথ কার্নিভাল: পিএমপি কোর্স করতে টোটাল খরচ কতো হবে?
ফয়জুর রহমানঃ এক্সাম কোর্স ফি ২০ হাজার বা এর আশেপাশে। প্যাকেজ থাকলে একটু কমে যায়। আর PMP পরীক্ষা এবং PMI মেম্বারশীপ সহ আপনাকে ৫৪৪ থেকে ৫৫৫ ডলার খরচ করতে হবে। এটা সরাসরি PMI কে দিতে হবে। পরীক্ষা খারাপ হলে আরও দুবার দিতে পারবেন, সেক্ষেত্রে প্রতিবারের জন্য ২৭৫ ডলার দিতে হবে তাদের।

ইয়ুথ কার্নিভাল: ইয়ুথদের জন্য আপনার পরামর্শ কী হবে?
ফয়জুর রহমানঃ কাজের মধ্যে আনন্দ খুজে পেলে তো দারুন। একজন পরিতৃপ্ত মানুষ তার চারপাশটা পরিতৃপ্ত রাখতে চায়। আমাদের দেশটা ভীষন বৈচিত্র্যময়, ভীষন প্রানবন্ত, চারপাশে অনেক মানুষ, অনেক পরিশ্রমী মুখ, আর এগুলো থেকে কাজের আনন্দ খুজে পেলে তো কথাই নেই । আর নিজেকে সবসবয় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরী রাখা, নিজেকে আপডেট রাখা। ঐযে বললাম ফেল করা মানুষ আবার পরীক্ষা দিতে পারে, সমস্যা নেই। পড়ে গেলে প্রথমে উঠে দাড়ান, এর পরে হাটুন, একটা সময় দেখবেন আপনার হাটার গতি অন্যের দৌড়ের গতির চেয়েও বেশী। শুভকামনা থাকলো আপনার জন্য।

Comments

comments

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top