Career & Scholarship

ব্রেকিং নিউজ: মালয়েশিয়া দ্রুত শ্রমিক নিতে পারে

  • 2d39dea899948191e4e719acabafdcb7-untitled-1
  • 2d39dea899948191e4e719acabafdcb7-untitled-1

Store

বাংলাদেশ থেকে আবার দ্রুতই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে। মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশকে এমন আশ্বাস দিয়েছে বলে সরকারি সূত্র বলছে। সেখানে নির্মাণ খাত, বনায়ন ও শিল্প উৎপাদন খাতে বাংলাদেশি কর্মীরা কাজ করার সুযোগ পাবেন। মালয়েশিয়ায় যেতে একজন কর্মীর খরচ হবে ৩৫ থেকে ৩৭ হাজার টাকা। একজন কর্মী ছয় বছর মালয়েশিয়ায় থাকতে পারবেন।

গত নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। যাঁরা যাবেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিমা করা হবে।

সরকার ও জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা বলছেন, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে কর্মী নেওয়ার জন্য যে (জি টু জি প্লাস) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তারই ভিত্তিতে এই কর্মীরা যাবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি ডিসেম্বর মাস থেকেই চাহিদাপত্র আসা শুরু হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ট আনাক জায়েমের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ১৫ নভেম্বর ঢাকায় আসে। পরে প্রতিনিধিদল প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মালয়েশিয়া বলেছে, তারা ১৫ নভেম্বর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী নেওয়া চালু করেছে। এখন অনলাইন নিবন্ধনের প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য বিষয় ঠিক করতে যা কয়েক দিন সময় লাগবে।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের শুরুতেই মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড বলেন, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে খুব আগ্রহী। এই মুহূর্তে দেশটি নির্মাণশ্রমিক, বনায়ন ও উৎপাদন খাতে কর্মী নেবে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কাজটি গুটি কয়েক ব্যবসায়ী পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী। তবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৈঠকে আমি বলেছি, জনশক্তি রপ্তানিতে দালাল চক্র নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর। গুটি কয়েক রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুযোগ না দিয়ে সরকার যে ৭৪৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠিয়েছে, সেখান থেকে অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান পছন্দমতো বেছে নিতে পারে মালয়েশিয়া। এতে করে অভিবাসন খরচ কমবে এবং সরকারনির্ধারিত খরচে কর্মী পাঠানো যাবে।’

মালয়েশিয়ার ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার নুর আশিকিন বিনতে মোহাম্মদ তায়েব, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমহাসচিব শাহনিয়ার বিন দারুসমান, অভিবাসন দপ্তরের মহাপরিচালক হাজি মুস্তাফার বিন হাজি আলী, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জেফরি বিন জোয়াকিম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব জামিরি বিন মাত জিন, অভিবাসন দপ্তরের পরিচালক খায়রুল খায়ের বিন ইয়াহিয়া, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সহকারী সচিব শাহাবুদ্দিন বিন আবু বকর ও মানবসম্পদমন্ত্রীর বিশেষ কর্মকর্তা রবার্ট আনাক দাপন।

বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ছাড়া অন্যদের মধ্যে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ, যুগ্ম সচিব নারায়ণ চন্দ্র বর্মা, মো. আকরাম হোসেন, যুগ্ম সচিব মো. বদরুল আরেফীন, মন্ত্রীর একান্ত সচিব মু. মোহসিন চৌধুরী, মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের কাউন্সেলর (শ্রম) মো. সাইদুল ইসলাম ও বিএমইটির পরিচালক নুরুল ইসলাম।

বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা জানান, কবে নাগাদ কর্মী নেওয়া শুরু হবে, সে বিষয়ে ১৫ নভেম্বরের বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি। তবে মালয়েশিয়া বলেছে, দুই দেশ মিলে এখন অনলাইন পদ্ধতিসহ বাকি সবকিছু চূড়ান্ত করবে। এতে ১০-১২ দিন সময় লাগবে। কাজেই ডিসেম্বর থেকেই কর্মী যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি জি টু জি প্লাস (সরকারি ও বেসরকারি) পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার সমঝোতা স্মারকে সই করে। কিন্তু এর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মালয়েশিয়া জানায়, এই মুহূর্তে তারা আর কোনো কর্মী নেবে না। এতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া ঝুলে যায়। তবে ১৫ নভেম্বরের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সব জটিলতা কেটে গেল বলে মনে করে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)।

বায়রার মহাসচিব রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকেই চাহিদাপত্র আসবে বলে আশা করছি। এবার যাঁরা যাবেন, তাঁদের বিমা করা থাকবে। যাওয়ার আগে প্রত্যেকের আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। আমরা আশা করছি, মালয়েশিয়ায় কয়েক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। প্রাথমিকভাবে একজন কর্মী ছয় বছর থাকতে পারবেন। প্রথম দফায় তিন বছর এবং পরে বছর বছর নবায়ন করে তিনি থাকতে পারবেন।’

 

Comments

comments

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top