Leadership

সাফল্য আসলে কি? খুব ক্ষণস্থায়ী একটা বিষয় যার অর্জন খুবই কঠিন অথচ তা অর্জনের সাথে সাথে প্রস্তুত হতে হয় আরেকটা নতুন চ্যালেঞ্জ নেবার জন্য : জাভেদ পারভেজ

  • zaved-vai
  • zaved-vai

Store

জাভেদ পারভেজ বর্তমানে বহুজাতিক প্রতষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেড এ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি মানবউন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় বক্তব্য দেন। জাভেদ একজন ‘সার্টিফাইড কর্পোরেট ও লাইফ কোচ’। ইয়ুথ কার্নিভালের পক্ষ থেকে আমরা এবার মুখোমুখি হয়েছি জাভেদ পারভেজ সাথে । সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন ইয়ুথ কার্নিভালের মূল উদ্যোক্তা এরিকসনের সিনিয়র সলিউশন ম্যানেজার শাহিনূর আলম জনি

 

 আপনার নিজের সম্পর্কে একটু বলুন?
> ড্রিমস ফর টুমরো নিয়ে একটা যুদ্ধের মধ্যে আছি। তবে এই চ্যালেঞ্জটা আছে বলে জীবনটাকে এঞ্জয় করছি। অনেকদিন বাঁচতে ইচ্ছে হচ্ছে। মনে হয় কাজগুলো শেষ না করে মরার কোন মানে হয় না। 🙂

 
 জব সম্পর্কে কিছু বলুন?
> আমি রবি তে কাজ করছি প্রায় সারে এগারো বছর। প্রথম সাত বছর টেকনোলজি তে কাজ করেছি… মূলত রেডিও নেটওয়ার্ক প্লানিং এ। পরে ২০১২ তে ফাইনান্সে চলে আসি। ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট প্লানিং, ম্যানেজমেন্ট ও কনট্রোল এ। খুব ভালো একটা টিম আছে আমার। ইনগেজড ও এমপাওয়ার্ড। সবমিলিয়ে একটা ডিমান্ডিং টিম আমরা। পাশাপাশি, আমি টিমের কাছে কৃতজ্ঞ…তারা সব পরিস্থিতিতেই আমাকে সাপোর্ট দেয়।

 
আপনার মতে আপনে কতটুকু সফল?
> ড্রিমস ফর টুমরো কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে একটা স্বপ্ন দেখতে পারছি যা ঘুমা আসতে বাধা দেয়…এটাকে যদি সফলতা বলেন তবে আমি ১০০% সফল। 
তবে সিরিয়াসলি বললে, আমার কাছে সফলতা হচ্ছে একটা নেভার এন্ডিং জার্নি। (এপ্রসঙ্গএ একটা লেখা আছে আমার: goo.gl/uYRcNC) সেই পথের প্রত্যেকটা স্টেপকে এনজয় করাটাই আসল কথা। সেটা বেশ করছি আমি।

 
 ফিউচার প্লান কি ?
> ড্রিমস ফর টুমরোর স্বপ্নকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। ২০২১ সালের মধ্যে সারাদেশে ২০০০ D4T সেন্টার করার পরিকল্পনা আমাদের যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী বাড়ীর ১-২ কিমি এর মধ্যে একটি করে সেন্টার পায়। সেলক্ষ্যে D4T সেন্টার এক্সপান্ড করছি আমরা। পাশাপাশি, সেন্টারগুলোকে পুরোপুরি অপারেশনাল করতে প্রয়োজনীয় ম্যাটেরিয়াল ও ওয়ার্কফোর্স ম্যানেজ করতে হচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ভলান্টারি মোডালিটিতে চলছি। সেক্ষেত্রে অর্গানাইজেশনাল এফিসিয়েন্সি ও কন্টিনিউইটি পেতে কষ্ট হচ্ছে। তবে আশার কথা, প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হচ্ছে, কথা হচ্ছে। সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চাইছেন। আশাকরি, শীঘ্রই আমরা পুরো এফিসিয়েন্সি নিয়ে এগুতে পারব।

 
আপনার professional ও সোশ্যাল লাইফ সম্পর্কে কিছু বলুন?
> যেমনটা জানেন, আমি রবি আজিয়াটায় কাজ করছি…তা প্রায় একযুগ হতে চলল। এ প্রতিষ্ঠান ও তার ম্যানেজমেন্ট এর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন এবং একের পর এক গুঢ়ু দায়িত্ব সঁপেছেন। সুযোগ পেয়েছি CXO ও Group লেভেলের ম্যানেজমেন্টের সাথে সরাসরি কাজ করার। ফলে কখনই কাজে একঘেয়েমি আসে নি। উল্টো ডে-টু-ডে কাজের বাইরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যানেজমেন্ট লেসন শিখেছি – যা সচরাচর জানা যায় না, অথচ এগুলো খুবই ব্যাসিক! এখন বেশিরভাগ সময় দেই টিমের মধ্যে এই বেসিক বিষয়গুলো কাল্টিভেট করার জন্য।

সোশাল লাইফ? ড্রিমস ফর টুমরোর কাজ প্রসার পাওয়ার সাথে সাথে প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হচ্ছে। অন্যদিকে, পিপল ডেভেলপমেন্ট যেহেতু আমার প্যাশন তাই ছুটির দিনগুলোতে কোন না কোন কমিউনিটি বা কম্পানির সাথে কাজ করার চেষ্টা করি। এর মধ্যে ড্রিমস ফর টুমরোর ম্যানেজমেন্ট বা ভলান্টিয়ারদের সাথে মিটিং থাকে। একটা এভার ইনক্রিজিং সোসাল ইনগেজমেন্ট বলতে পারেন!

 
আপানর জীবনের উত্থান-পতনগুলো কে কিভাবে দেখেন?
> জীবন হলো এসি কারেন্টের মতো – সাইন ওয়েভ। ডিসি কারেন্টের মত সরল রেখা না। তাই এখানে উত্থানপতন আসবেই। পতন মানেই সাইন ওয়েভের তলানি, সামনেই উত্থান। তাই পতনের সময় সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে তা মেনে নেয়া এবং রুট কজগুলো খুঁজে বের করে সে অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া।

 
কিছু motivational গল্প বলুন? সাথে কিছু মজার গল্প?
> একটা ছোট ঐতিহাসিক ঘটনা বলি, হয়ত শুনে থাকবেন। এক সাংবাদিক এলেন জওহরলাল নেহেরুর ইন্টার্ভিউ নিতে। তিনি সময় নিয়েই এসেছিলেন। কিন্তু কি একটা কাজ পরে যাওয়ায় নেহেরুকে তখনই বেরুতে হচ্ছিল। সাংবাদিক তাঁকে একটাই প্রশ্ন করার সুযোগ পেলেন, ‘স্যার, আপনার সফলতার মূলমন্ত্র কি?’ নেহেরু তাঁর টেবিলের কাঁচের নিচ থেকে একখন্ড কাগজ বের করে সাংবাদিক সাহেবের হাতে দিলেন। বেরুতে বেরুতে বললেন, ‘এটাই’।
কাগজে লেখা ছিল ফ্রস্টের বিখ্যাত কবিতা – Stopping by woods on a snowy evening শেষ চারটি লাইন:
The woods are lovely, dark and deep.
But I have promises to keep.
And miles to go before I sleep.
And miles to go before I sleep.

 
দেশের জন্য ও ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করতে কেমন লাগে?
> ছোটদের জন্য কাজ করতে বেশ ভালো লাগে আমার। আসলে ওরাই কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ। ওদের আমরা যেভাবে গড়ে তুলব, আগামীর বাংলাদেশ ঠিক তেমনই হবে। তাই একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ওদের জন্য কাজ করার কোন বিকল্প নেই।
আর বাংলাদেশ? অনেক সম্ভাবনার একটা দেশ। হ্যা, এটা ঠিক যে আমাদের কিছু সমস্যা রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ করে যে দেশ স্বাধীন হয়, সে কোন বাধা মানে না। আমি নিশ্চিত যে, আমরা যদি প্রত্যেকে ঠিক কাজটা করি তবে সব সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

 
দেশ ও দেশ মানুষকে নিয়ে কেমন স্বপ্ন দেখেন?
> আমরা সতের কোটি মানুষের দেশ। তারমানে আমাদের চৌত্রিশ কোটি হাত আছে…সতের কোটি ব্রেইন আছে। চারপাশে একটু তাকিয়ে দেখুন কয়টা ব্রেইন আমরা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পেরেছি বা পারছি? আমি মনেকরি, আমাদের একটা চিন্তাশীল জাতি গঠন করতে হবে যেখানে সবাই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেবে…সবাই সব পর্যায়ের মানুষ। আমরা যদি ঠিকমত ভাবতে পারি তাহলেই শুধু ঠিক কাজটা করতে পারব। আমি এমন একটা আগামীর বাংলাদেশ দেখি যেখানে সতের কোটি ব্রেইন চিন্তা করে ঠিক সিদ্ধান্ত নেবে, চৌত্রিশ কোটি হাত ঠিক কাজটা করবে।

 
ড্রিমস ফর টুমোরো নিয়ে কিছু বলুন?
> ড্রিমস ফর টুমরো একটি অলাভজনক সংগঠন যা গ্রামবাংলার স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ছড়িয়ে দেবার পাশাপাশি তাদের স্বপ্ন, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের গুণাবলী শিখতে উদ্বুদ্ধ করছে। বর্তমানে আমরা চারটি সেন্টার অপারেট করছি। সারাদেশে ২০০০+ D4T সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ, তবে অসম্ভব নয়। প্রয়োজন আপনাদের সবার সহযোগিতা। কাজটা সফলভাবে করতে পারলে আমরা একটা চিন্তাশীল ও যোগ্য প্রজন্ম তৈরী করতে পারব যারা আগামীর সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তৈরীতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

 

ইউথ কার্নিভাল কিভাবে দেখছেন আর ফিউচার কি কি দেখতে চান?
> নিঃসন্দেহ একটি ভালো উদ্যোগ। আমি এর সার্বিক মঙ্গল কামনা করি। আমি মনেকরি, ইউথ কার্নিভাল ও ড্রিমস ফর টিমরোর একসাথে কাজ করার অনেক বড় গ্রাউন্ড আছেন। দুই প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকগণ এ ব্যাপারে ভেবে দেখতে পারেন।

Comments

comments

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top