Career & Scholarship

স্বাস্থ্যসেবা খাতে আইটি মেধার চরম সংকট

Store

স্বাস্থ্য বিষয়ে গুণগত মানসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ আইটি মেধার বেশ সংকট রয়েছে। এবং পর্যবেক্ষকদের মতে তা দিনকে দিন খারাপদিকেই এগুচ্ছে। তবে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান মনে করে যে অন্যান্য খাত থেকে আইটি বিশেষজ্ঞদের এই ক্ষেত্রে নিয়ে আসা এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। বস্তুত, বেশিরভাগ হাসপাতাল এবং চিকিৎসাসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এমন আইটি ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ করে যাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে কোন ধারণাই নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও এর একটি স্বাস্থ্যখাতে আইটি কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের কনসাল্টিং অ্যাসোসিয়েটস এর সভাপতি ফ্র্যাঙ্ক মিরফ বলেন, অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানই এই বিষয়ে অভিজ্ঞ জনবল চাইছে।

ওয়াশিংটন ডিসি’র একটি বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক পরামর্শদানকারী ফার্ম এর সিনিয়র রিসার্চ ডিরেক্টর আর্নি হুড বলেন “স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো আইটি বিষয়ক প্রশিক্ষন প্রদান করতে খুব একটা আগ্রহী হয়না। এছাড়া এই বিষয়ে পড়াশুনা করলেও তা ব্যবহারিক জ্ঞানকে কখনোই পেছনে ফেলতে পারেনা”।

এই স্বাস্থ্যসেবা খাতে আইটি পেশাজীবীদের এই সংকট যে পারিশ্রমিকের কারণে তা নয়। সাম্প্রতিক কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড/ আইডিজি এন্টারপ্রাইসের জরিপ অনুযায়ী, একজন প্রধান আইটি কর্মকর্তা বার্ষিকভাবে গড়ে ১৭৩,৯৪১ মার্কিন ডলার আয় করেন। যেখানে একই পেশায় থেকে কম্পিউটার সংক্রান্ত চাকুরীতে গড় আয় ১৪৬,১১১ মার্কিন ডলার, শিক্ষাখাতে ১৫১,৮৮৯ মার্কিন ডলার, সরকারি খাতে ১৩৩,৯৭২ মার্কিন ডলার, আইন/বীমা ও রিয়েল এস্টেট খাতে ১৯১,৭৬২ মার্কিন ডলার, ম্যানুফ্যকচারিং খাতে ১৯২,৮৮৫ মার্কিন ডলার আয়। এসব পর্যালোচনায় দেখা যায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের আয় অন্যান্য খাতের সাথে তুলনায় বেশ ভালো অবস্থানেই আছে।

মিরফ জানান, “ বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই বেশ ওয়াকিবহাল। এবং গ্রাম্য এবং পিছিয়ে পরা জায়গাগুলোতে ওইভাবে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো আর্থিক সহায়তা করা হয়না।

আইটি খাতে সংকট এখন কি পর্যায়ে বা কততা খারাপ? 2014 survey by the Health Information Management and Systems Society (HIMSS) এর জরিপ অনুযায়ী এই প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যখাতের ব্যবস্থাপকেরা জানান অপ্রতুল কর্মীর কারণে এক তৃতীয়াংশ আইটি বিষয়ক কাজ পিছিয়ে আনতে হয়েছে। তবে এটি এই কারণে নয় যে তাঁরা প্রতিষ্ঠানে সুবিধামতো জনবল পায়নি বলেও একটি সূত্র ব্যাখ্যা করেন।

এটি এই খাতে কর্মীর চাহিদার একটি সংকেত বলে ধরা যেতে পারে। তবে প্রশ্ন রয়েছে এখানে কর্মী সংকটের কারণ প্রতিষ্ঠানের চাওয়া অনুযায়ী কর্মী না পাওয়া কিংবা পর্যাপ্ত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মী না থাকা এই বিষয়ে।

এছাড়া আউটসোর্সিং এর বিষয়টিও একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই আউটসোর্সিং এর ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নয়। স্বাস্থ্যখাতে বেশিরভাগ আউটসোর্সিং ব্যবহৃত হয় ক্লিনিকাল সাপোর্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, সিস্টেম ডিজাইন এন্ড এপ্নিকেশনে।

মিরফ এর ধারণা অনুযায়ী, “স্বাস্থ্যসেবার এই সংকট ধীরে ধীরে আরো ঘনীভূত হচ্ছে। আমাদের প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের পর্যাপ্ত কর্মী নেই। প্রায় দশ হাজারের মত চাকুরি রয়েছে যার জন্য পর্যাপ্ত লোকবল আমাদের কাছে নেই”

এই সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডের জন্য সরকারের প্রেষনাদানকারী উদ্যোগ। এই উদ্যোগ নিয়েই গত কয়েকবছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে বেশিরভাগ হাসপাতাল এবং চিকিৎসকেরা।

ডায়াগনস্টিক কোডিং সিস্টেম নামে এক ধরণের সরকারী আইটি প্রোগ্রামও এই অক্টোবর এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া হচ্ছে। এতে করে অভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক সফটওয়্যার টেস্টিং এর কাজ রয়েছে। এটি শুধু স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিকল্পনাই নয়, ট্রেডিং পার্টনারদের সাথেও কাজ করতে পারে।

এছাড়াও, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকেরা “value-based reimbursement” নামে এক ধরণের নতুন পেয়মেন্ট সিস্টেম এর সহায়তা নিচ্ছে যা খুব বেশি মানসম্পন্ন এবং কার্যকরী। তথ্য একীভূতকরণ এবং বিশ্লেষণের ব্যাপারে এক্ষেত্রে আইটি পেশাজীবী প্রয়োজন যার সংকট রয়েছে।

হুডের চাইতে আলাদাভাবে সরকারের এই উদ্যোগকে দেখেন মিরফ। যেকোনভাবেই হোক, স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট রয়েছে আরো বেশি আইটি পেশাজীবী নিয়োগ দেবার বলে মনে করেন তিনি।

ইন হাউস প্রোগ্রামঃ

এই দুরত্ব বা সংকত ঘোঁচাতে অনেকেই এবার আভ্যন্তরীনভাবে অতিরিক্ত আইটি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেন। এই কর্মীরা সাধারণত নার্স হয়ে থাকে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় আইটি কোর্সের মাধ্যমে কাজ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে প্রতিষ্ঠানে সাহায্য করে থাকেন

হুড মনে করেন এটি খুব একটা দুরদর্শী উদ্যোগ নয়। কোন প্রতিষ্ঠানই এমন ইন হাউস ট্রেইনিং এর ব্যাপারে খুব একটা জানেন না। এতে খুব বড় কন কাজ করার ক্ষমতাও অর্জন হয়না বলে মনে করেন তিনি।

তবে মিরফ মনে করেন অনেক প্রতিষ্ঠানই এই কাজ করে বেশ ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তাঁর মতে সমস্যা হলো, এই আয়োজন দিয়ে আইটি সংক্রান্ত সমস্ত কাজ করা সম্ভব নয়। আংশিক সমাধান হলেও কেউই পুরো আইটি বিষয়ে কাজ করতে পারবে না বলে মত দেন মিরফ। অনেক মেডিকেল স্কুল এখন শিক্ষার্থিদের একটু একটু করে আইটি ট্রেনিং দেয়। তবে এটি থেকেও পুর্নাংভাবে সাহায্য পাওয়া যায়না বলে হুড মনে করেন।

হুড আরো মনে করেন হাসপাতালগুলোর এমন আইটি সাপোর্ট থাকা উচিৎ যা কাজের পরিধি এবং কাজের ধরণই একেবারে পাল্টে দেবে এবং চিকিৎসকদেরও সহযোগীতা করতে পারবে।

হুড এবং মিরফ দুজনেই মনে করেন যে স্বাস্থ্যখাতে আইটি কিভাবে সাহায্য করতে পারে,কিভাবে আরো ভালো অবস্থা তৈরি করতে পারে তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা চাই। হুড মনে করেন আইটি বিশেষজ্ঞদের মনে রাখা চাই কখন চিকিৎসক ও নার্সদের কি রকমের সাহায্য দরকার এবং সেই অনুযায়ী কাজ করা উচিৎ। আর মিরফ যোগ করেন যে একজন স্বাস্থ্য বিষয়ক আইটি প্রফেশনালের ক্লিনিক্যাল মাইন্ড থাকা খুব জরুরী।

Comments

comments

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top