Blog

৩৬ তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের টিপস

  • 10536415_828108070567323_9142596312058805037_o-300x243
  • 10536415_828108070567323_9142596312058805037_o-300x243

Store

নিয়তি রাণী কৈরী
শিক্ষাবর্ষ: ২০০৮-০৯, ইংরেজি বিভাগ
শাবিপ্রবি (৩৫ তম বিসিএস এ এডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত)

দরজায় কড়া নাড়ছে ৩৬ তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা। চিন্তিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রেখে নিয়মিত পড়ালেখা করলে আপনার কাঙ্খিত ফল আপনার কাছে ধরা দিতে বাধ্য। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পর্কে আপনাদের ধারণা দিতেই আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

নিয়তি রাণী কৈরী, ইংরেজি বিভাগ, শাবিপ্রবি (৩৫ তম বিসিএস এ এডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত)

নিয়তি রাণী কৈরী, ইংরেজি বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ: ২০০৮-০৯, শাবিপ্রবি (৩৫ তম বিসিএস এ এডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত)

ইংরেজি:
ইংরেজিতে মুখস্ত করার কিছুই নেই সিলেবাসে। শেষ সময়ে শুধু গ্রামার আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ এসে টপিকের উপর চোখ বুলিয়ে যাবেন।
যে প্যাসেজটা পরীক্ষায় আসবে তার প্রশ্নগুলো আগে পড়ে নিয়ে বুঝে বুঝে প্যাসেজটা অন্তত দুই বার পড়বেন। এমনভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করবেন যেন শেষ ৫০ মিনিট রচনার জন্য অবশ্যই থাকে। শুদ্ধ বানান আর গ্রামারের দিকে নজর রাখলে মার্ক আসবেই।

বাংলা:
শেষ মুহূর্তে ব্যাকরণ, সাহিত্য, রচনার কিছু টপিক আর চিঠিপত্রের নিয়ম দেখে যান। বাদ বাকি আপনার বানিয়ে লিখতে হবে সেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে যাবেন। শুদ্ধ বানানে যতটা পারা যায় মার্জিত ও নান্দনিক ভাষা ব্যবহার করুন।
বাংলা বিষয়ে প্রথম ও ২য় পত্র দুটো খাতায় লিখতে হয়। দুটো খাতা ও প্রশ্ন শুরুতেই দিয়ে দেওয়া হয় । চেষ্টা করবেন প্রথম পত্র ২ ঘন্টার আগেই শেষ করতে এবং এটা সম্ভব । ২য় পত্রে লেখা বেশি তাই সময় বেশি দিন। রচনার জন্য ৫০ মিনিট রেখে বাকি অংশ গুলোর টাইম ম্যানেজমেন্ট বাসা থেকেই করে যাবেন।

বাংলাদেশ বিষয়াবলী:
সংবিধান, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১’র ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, পররাষ্ট্রনীতি এসব থেকেই ৪০ শতাংশ কমন পাবেন। তাই এসব ভাল ভাবে দেখে যাবেন।
পরীক্ষায় ৪০ টা প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে!! তাই ফুল আনসার করাই সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটা প্রশ্নের জন্য কোনভাবেই ৬ মিনিটের বেশি ব্যবহার করবেন না।জীবনের সর্বোচ্চ গতিতে লিখে যেভাবেই হোক ফুল আনসার করেই আসবেন।

আন্তর্জাতিকঃ
মৌলিক বিষয় ও জাতিসংঘ সহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা গুলোর উপর জোর দিন। সাম্প্রতিক বিষয় থেকে বড় জোর একটা প্রশ্ন আসবে তাই সব পড়তে যেয়ে সময় নষ্ট করবেন না ।
আন্তর্জাতিকে ১০ টা ছোট প্রশ্ন আর প্রবলেম সলভিং সহ ৪ টা বড় প্রশ্ন থাকবে। প্রথম ১ ঘন্টায় ১০টা ছোট প্রশ্ন লিখে ফেলুন। প্রতিটা প্রশ্নে পাবেন ৬ মিনিট করে। বাকি ২ ঘন্টায় ৩০ মিনিট করে ৪ টা বড় প্রশ্ন লিখুন।

গণিতঃ
আগের বছরের প্রশ্নগুলো খুব ভালভাবে দেখে যাবেন। একটা ও যেন বাদ না পড়ে। আর নতুন টপিক গুলো গাইড বই থেকে দেখে নিন। দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিসের কোন বিকল্প নেই । প্রশ্ন যাই হোক মাথা ঠান্ডা রাখাই গণিতে ভাল করার প্রধান সূত্র।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিঃ
বিজ্ঞানের সিলেবাস দেখে প্রতিটা টপিক রিভাইস করে এখনি রেখে দিন। পরীক্ষার আগের রাতে শুধু চোখ বুলাবেন।
টু দ্যা পয়েন্ট আনসার করবেন। অতিরিক্ত লিখার দরকার নেই। উত্তরের আকার ছোট হলেও প্রশ্নের সংখ্যা অনেক বেশি তাই প্রথম থেকেই স্পীডে না লিখলে ধরা খাবেন । যে ভাবেই হোক ফুল আনসার করুন।

পাদটিকাঃ
১। প্রস্তুতি যেমনি থাক পরীক্ষার হলে আপনার পারফর্মেন্সটাই সব। তাই কৌশলী হোন ।
২। প্রশ্ন দেখে লেখা কম ভেবে যদি শুরুতে গদাই লস্করী চাল আরাম্ভ করেন তবেই শেষ! প্রয়োজন হলে লেখা শেষ করে ১০ মিনিট বসে থাকবেন তবুও শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গতি নিশ্চিত করুন।
৩। সব উত্তরের মান ও পরিমাণ যেন একই হয় তা নিশ্চিত করুন। একটা খুব ভাল করে লিখতে গিয়ে আরেকটার অবস্থা বারোটা বাজিযেছেন তো মরেছেন।
– শুভকামনা সবার জন্য।

 

Courtesy: SUSTNEWS

Comments

comments

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top